হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর আমাদের জন্য তেমনই একটি দিন।
এই সেই দিন, যেদিন মাশহাদের ভূমি এমন এক সন্তানকে তার কোলে ধারণ করেছিল, যার জীবনযাত্রা জ্ঞান ও ফিকহের পথ অতিক্রম করে হাওজা ইলমিয়ার জ্ঞানসমৃদ্ধ পরিবেশে পৌঁছেছিল; যিনি পাঠ ও আলোচনা, গবেষণা ও শিক্ষাদান এবং জ্ঞানচর্চার কঠিন সাধনার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করেছেন। তাঁর জীবনে যেমন বই ও কলমের সান্নিধ্য ছিল, তেমনি ছিল কর্মক্ষেত্রের আহ্বানও।
আজ আমরা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যিদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ী (হাফিজাহুল্লাহ)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অন্তরের গভীরতা থেকে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই-এমন এক শুভেচ্ছা, যার মধ্যে শব্দের চেয়ে ভালোবাসা বেশি, বাক্যের চেয়ে আন্তরিকতা বেশি এবং আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে হৃদয়ের আকুতি বেশি।
একজন মানুষের মহত্ত্ব কেবল তিনি কোন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন-তার দ্বারা নির্ধারিত হয় না। প্রকৃত মহত্ত্ব তখনই প্রকাশ পায়, যখন মানুষ নিজের জন্য কোন পথ বেছে নেয়, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে ওঠে, কোন জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়, কোন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে এবং সিদ্ধান্তের মুহূর্তে কোন সারিতে দাঁড়ায়।
বংশপরিচয় মানুষকে পরিচিতি দিতে পারে, কিন্তু মর্যাদা দিতে পারে না।
পরিবার থেকে নাম পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সম্মান অর্জিত হয় চরিত্রের মাধ্যমে।
পদমর্যাদা প্রদান করা যেতে পারে, কিন্তু আস্থা অর্জিত হয় কেবল কর্মের মাধ্যমে।
এ কারণেই কোনো ব্যক্তিত্বকে শুধু তাঁর বংশ, নাম বা পদমর্যাদার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা আসলে সেই ব্যক্তিত্বের প্রতি যেমন অবিচার, তেমনি ইতিহাসের প্রতিও অবিচার। একজন ব্যক্তিত্বের প্রকৃত পরিচয় তাঁর যাত্রাপথে-যে যাত্রায় তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন, পরিশীলিত করেন, পরীক্ষা করেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের চরিত্রের সাক্ষ্য যুগের সামনে উপস্থাপন করেন।
সাইয়্যিদ মুজতবা খামেনেয়ীর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এই জ্ঞান ও কর্মের সমন্বয়।
তিনি হাওজা ইলমিয়ার পথ বেছে নিয়েছেন, ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানে শিক্ষালাভ করেছেন, ফিকহ ও উসূলের সূক্ষ্ম ও গভীর আলোচনায় বহু বছর চিন্তা ও গবেষণা করেছেন, হাওযার বিশিষ্ট উস্তাদদের সামনে জ্ঞানার্জনে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং কোমের জ্ঞানসমৃদ্ধ পরিবেশে পাঠ, আলোচনা, গবেষণা, শিক্ষাদান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সেই সুপ্রাচীন ধারার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন-যে ঐতিহ্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিয়া জ্ঞান-সভ্যতার প্রদীপগুলো প্রজ্বলিত রেখেছে।
হাওজা শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়
হাওজা হলো চিন্তার একটি সংস্কৃতি, দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের একটি প্রশিক্ষণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনার একটি ক্ষেত্র।
সেখানে জ্ঞান শুধু পড়া হয় না, জীবনে প্রয়োগ করা হয়; যুক্তি শুধু শোনা হয় না, যাচাই করা হয়; প্রশ্ন শুধু উত্থাপন করা হয় না, বরং তার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।
ফিকহ শুধু বিধি-বিধানের সমষ্টি নয়; এটি দ্বীনের প্রকৃতি ও মর্ম বোঝার নাম।
উসূল শুধু পরিভাষার জগৎ নয়; এটি যুক্তি ও প্রমাণের সেই ভিত্তি, যার ওপর একজন দূরদর্শী আলেম তাঁর চিন্তার কাঠামো নির্মাণ করেন।
আর ইজতিহাদ কেবল একটি জ্ঞানগত মর্যাদা নয়; বরং পরিবর্তনশীল সময়ের নতুন প্রশ্নগুলোর সামনে ইসলামী চিন্তার জীবন্ত শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
হাওজা একজন শিক্ষার্থীকে শুধু কী চিন্তা করতে হবে তা শেখায় না; বরং কীভাবে চিন্তা করতে হবে, সেটিও শেখায়।
এটি শুধু বই দেয় না, দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
শুধু বক্তব্য দেয় না, উপলব্ধি দেয়।
শুধু তথ্য দেয় না, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা সৃষ্টি করে।
আর যখন জ্ঞান ঈমানের সঙ্গে, ঈমান প্রজ্ঞার সঙ্গে, প্রজ্ঞা কর্মের সঙ্গে এবং কর্ম দৃঢ়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন মানুষ কেবল একজন আলেম থাকেন না; বরং এমন এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়ার পথে অগ্রসর হন, যার কাছে জ্ঞান শুধু অলংকার নয়, বরং দায়িত্বে পরিণত হয়।
এখানেই একটি প্রশ্ন সামনে আসে:
বই মানুষকে কতটা পরিবর্তন করেছে?
কতগুলো বই পড়া হয়েছে-এটি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই বইগুলো চরিত্রে কতটা আলো সৃষ্টি করেছে-মূল প্রশ্ন সেটিই।
কতগুলো উদ্ধৃতি মুখস্থ আছে-সেটিও গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই উদ্ধৃতিগুলো থেকে কতটা প্রজ্ঞা সৃষ্টি হয়েছে-মূল গুরুত্ব তার।
কারণ জ্ঞান যদি চরিত্র সৃষ্টি না করে, তবে তা বইয়ের বোঝা; আর চরিত্র যদি জ্ঞানশূন্য হয়, তবে তা আবেগের কোলাহল।
পূর্ণতা সেখানে সৃষ্টি হয়, যেখানে জ্ঞান ঈমানে পরিণত হয়; ঈমান প্রজ্ঞায়; প্রজ্ঞা কর্মে; আর কর্ম দৃঢ়তা ও অবিচলতায় রূপান্তরিত হয়।
যখন বই ও কর্মক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়
জীবন সবসময় একই রঙে থাকে না।
এক সময় হাতে থাকে বই, সামনে থাকেন শিক্ষক এবং মন প্রশ্নের জালে আবদ্ধ থাকে; আবার এমন সময়ও আসে, যখন পরিস্থিতিই একটি প্রশ্ন হয়ে সামনে দাঁড়ায় এবং মানুষকে তার জ্ঞান, ঈমান ও সংকল্পের জবাব দিতে হয়।
সাইয়্যিদ মুজতবা খামেনেয়ীর জীবনে পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের সময় কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এই বাস্তব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে প্রতিভাত হয়।
যে হাত বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টায়, সময়ের দাবি এলে সেই হাতই প্রতিরক্ষার ময়দানেও উঠতে পারে।
যে জিহ্বা পাঠ ও আলোচনায় যুক্তি উপস্থাপন করে, সত্যের সময় এলে সেই জিহ্বাই সত্যের বাণী উচ্চারণ করতে পারে।
আর যে হৃদয় মিহরাবে আল্লাহর সামনে নত হয়, দায়িত্বের মুহূর্ত এলে সে ফরজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় না।
এটাই জ্ঞানের সৌন্দর্য-এটি মানুষকে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যেতে নয়, বরং দায়িত্ব গ্রহণ করতে শেখায়।
বই পড়ার মানুষ অনেক; কিন্তু বইয়ের হক আদায় করার মানুষ কম।
কথা বলার মানুষ অনেক; কিন্তু নিজের কথার মূল্য কর্মের মাধ্যমে পরিশোধ করার মানুষ কম।
দাবি করার মানুষ অনেক; কিন্তু পরীক্ষার মুহূর্তে সেই দাবিকে চরিত্রে রূপান্তর করার মানুষ খুবই কম।
আর ইতিহাস সবসময় তাদেরই স্মরণ করে, যারা কথা ও কাজের মধ্যকার দূরত্ব মুছে দেয়।
মাকতাবে আহলে বাইত (আ.)-এর জ্ঞানগত ঐতিহ্যও আমাদের এ শিক্ষা দেয় যে, আলেম শুধু সেই ব্যক্তি নন, যিনি অনেক কিছু জানেন; বরং আলেম তিনি, যিনি নিজের সময়কে চিনতে পারেন, সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন, ফিতনার ভিড়ে প্রজ্ঞার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে পারেন এবং নিজের জ্ঞানকে দ্বীন ও মানবতার সেবার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন।
জ্ঞান যদি মানুষকে যুগের বেদনা থেকে অজ্ঞ করে দেয়, তবে সে জ্ঞান অসম্পূর্ণ।
ইবাদত যদি মানুষকে দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে সে ইবাদতও অসম্পূর্ণ।
আর রাজনীতি যদি নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তা রাজনীতি নয়; নিছক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরিণত হয়।
পূর্ণতা তো সেখানেই, যেখানে জ্ঞান, ঈমান, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও দায়িত্ব একই বিন্দুতে মিলিত হয়।
সেখানেই একজন আলেম কেবল জ্ঞানী থাকেন না; বরং নিজ যুগের আমানতদার হয়ে ওঠেন।
নেতৃত্ব-পদ নয়, আমানত
আমানত কখনো সহজ নয়।
পদ যত উচ্চ হয়, দায়িত্ব ততই গুরুতর হয়।
যার হাতে প্রদীপ থাকে, তার কাছেই আলো প্রত্যাশা করা হয় বেশি।
যার কাঁধে পতাকা থাকে, তার কাছেই দৃঢ়তার প্রত্যাশা বেশি থাকে।
আর যার ওপর নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পিত হয়, তার কাছে শুধু শক্তি নয়, প্রজ্ঞাও প্রত্যাশিত; শুধু সাহস নয়, প্রজ্ঞাময় বিচক্ষণতাও; শুধু সংকল্প নয়, ন্যায় ও মমতাও।
নেতৃত্ব কেবল একটি পদ নয়; এটি একটি আমানত।
এটি ক্ষমতার আগে জবাবদিহি।
এটি কর্তৃত্বের আগে দায়িত্ব।
একজন নেতার সামনে শুধু আজকের প্রশ্ন থাকে না; তাঁকে আগামী দিনের পদধ্বনিও শুনতে হয়।
সংকটের সময় প্রশান্তি চাই, সিদ্ধান্তে প্রজ্ঞা চাই, কঠিন পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা চাই, শত্রুর মোকাবিলায় সাহস চাই এবং নিজের মানুষের সঙ্গে ন্যায় ও মমতা চাই।
নৌকার মাঝিকে তীরে চেনা যায় না; তাকে চেনা যায় ঝড়ের মধ্যে।
যখন ঢেউ উঁচু হয়, পথ অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং সবার দৃষ্টি একই দিকে নিবদ্ধ হয়, তখনই বোঝা যায়-মাঝির হাতে শুধু হাল রয়েছে, নাকি দূরদর্শিতাও রয়েছে।
এ কারণেই বড় দায়িত্ব পালনের জন্য জ্ঞানের সঙ্গে প্রজ্ঞা, শক্তির সঙ্গে নৈতিকতা, সংকল্পের সঙ্গে বিচক্ষণতা এবং দূরদর্শিতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ অপরিহার্য।
একটি জন্ম, একটি সম্পর্ক, একটি দোয়া
আজ ৮ সেপ্টেম্বর আমরা শুধু জীবনের আরও একটি বছর অতিক্রম করার বিষয়টি স্মরণ করছি না; আমরা এমন একটি জ্ঞান ও কর্মময় যাত্রাকে অভিবাদন জানাচ্ছি, যার মধ্যে মাশহাদের মাটিও রয়েছে, হাওযার জ্ঞানসমৃদ্ধ পরিবেশও রয়েছে, বই ও কলমের সঙ্গও রয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
আমরা সেই হাওযাভিত্তিক ঐতিহ্যকে অভিবাদন জানাই, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এক প্রদীপ থেকে আরেক প্রদীপ প্রজ্বলিত করে এসেছে; যেখানে এক প্রজন্ম তার জ্ঞানগত সম্পদ পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়; যেখানে জ্ঞানকে নিছক অলংকার নয়, বরং আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আমরা সেই প্রজ্ঞাকে অভিবাদন জানাই, যা ফিতনার অন্ধকারে পথ দেখায়।
আমরা সেই দৃঢ়তাকে অভিবাদন জানাই, যা ঝড়ের সামনে প্রদীপের মতো জ্বলতে থাকে।
আর আমরা সেই সংকল্পকে অভিবাদন জানাই, যা সহজ পথের পরিবর্তে দায়িত্বের কঠিন পথ বেছে নেয়।
তাই আজ আমাদের মুখে শুধু অভিনন্দন নয়, একটি দোয়াও রয়েছে।
পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করি-আল্লাহ যেন হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যিদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ীর জ্ঞানে ব্যাপকতা, চিন্তায় গভীরতা, প্রজ্ঞায় পরিপক্বতা, সংকল্পে দৃঢ়তা এবং পদক্ষেপে অবিচলতা দান করেন।
প্রতিটি পরীক্ষায় ধৈর্য, প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে প্রজ্ঞা, প্রতিটি সিদ্ধান্তে দূরদর্শিতা এবং প্রতিটি পর্যায়ে আল্লাহর সাহায্যকে তাঁর সঙ্গী ও সহায়ক করে দিন।
আল্লাহ করুন, জ্ঞানের প্রদীপ সর্বদা প্রজ্বলিত থাকুক, প্রজ্ঞার আলো সর্বদা দীপ্তিমান থাকুক, দৃঢ়তার সংকল্প সর্বদা অটুট থাকুক এবং দ্বীন ও মানবতার সেবার এই যাত্রা দিন দিন আরও উজ্জ্বল, আরও বিস্তৃত এবং আরও বরকতময় হয়ে উঠুক।
তাঁর প্রতিটি সকাল যেন আগের রাতের চেয়ে বেশি আলোকিত হয়;
প্রতিটি পদক্ষেপ যেন আগের পদক্ষেপের চেয়ে আরও দৃঢ় হয়;
প্রতিটি প্রচেষ্টা যেন কল্যাণ ও সংশোধনের মাধ্যম হয়;
এবং জীবনের প্রতিটি আগত অধ্যায় যেন জ্ঞানের আলোয় আলোকিত, কর্মের সৌন্দর্যে সুশোভিত, প্রজ্ঞায় উদ্ভাসিত এবং আল্লাহর তাওফিকে পরিপূর্ণ হয়।
৮ সেপ্টেম্বর মোবারক হোক!
এই দিন মোবারক, এই মুহূর্ত মোবারক, এই সম্পর্ক মোবারক।
জ্ঞান মোবারক, কর্ম মোবারক;
সংকল্প মোবারক, প্রজ্ঞা মোবারক;
কলম মোবারক, পদক্ষেপ মোবারক;
আর দ্বীন ও মানবতার সেবার এই যাত্রাও মোবারক।
আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সঙ্গে হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যিদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ীকে তাঁর পবিত্র জন্মবার্ষিকীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
দোয়া করি, আগত বছরগুলো যেন জ্ঞানের নতুন আলো, সেবার নতুন সুযোগ, প্রজ্ঞার নতুন বিস্তৃতি এবং কল্যাণ ও বরকতের নতুন দ্বার নিয়ে আসে।
আর যখন আগত প্রজন্মগুলো এই যুগের ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টাবে, তখন তারা যেন শুধু একটি ইতিহাস না পায়; বরং এমন একটি যাত্রা দেখতে পায়, যেখানে হাওযাও ছিল এবং কর্মক্ষেত্রও ছিল, কলমও ছিল এবং পদক্ষেপও ছিল, জ্ঞানও ছিল এবং কর্মও ছিল, সংকল্পও ছিল এবং প্রজ্ঞাও ছিল।
কোনো জন্মের জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে যে, বছর পেরিয়ে যাবে, ঋতু পরিবর্তিত হবে, সময় তার গতিপথ বদলাবে; কিন্তু সেই জীবনের অর্থ সময়ের সঙ্গে ম্লান হবে না। বরং প্রতিটি আগত প্রজন্ম তার মধ্যে নিজের জন্য জ্ঞানের একটি কিরণ, প্রজ্ঞার একটি পথ এবং কর্মের একটি আহ্বান খুঁজে পাবে।
আল্লাহ করুন, ৮ সেপ্টেম্বর যেন শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ হয়ে না থাকে; বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সংকল্প ও অবিচলতার একটি উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে ওঠে।
পবিত্র জন্মবার্ষিকীর আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
সাইয়্যিদ হুসাইন মাহদি আমসানি
আপনার কমেন্ট